পাগলা মসজিদ কিশোরগঞ্জ | ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং অজানা তথ্য

সমগ্র বাংলাদেশের দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে পাগলা মসজিদ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতস্থল হিসেবে সু-পরিচিত। লোকমুখে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মসজিদে মানত করলে বা দোয়া চাইলে অন্তরের ইচ্ছা পূরণ হয়ে থাকে। ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এটি কিশোরগঞ্জের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান হিসেবেও বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অসংখ্য মানুষ এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটির সৌন্দর্য স্বচক্ষে দেখতে ছুটে আসেন এখানে।

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ – বাংলার সবচেয়ে ধনী মসজিদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অজানা তথ্য।

প্রায় দুইশো আড়াইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের গোড়ার কথা জানার চেষ্টা করবো আজকের এই লেখায়। কী প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছিলো এই মসজিদটি? আর কীভাবেই বা এর নামকরণ হলো "পাগলা মসজিদ"? পাশাপাশি খুঁজে দেখবো, বাংলাদেশের মানুষের মনে কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদটি কেন এতটা গুরুত্ব ও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। পাগলা মসজিদ সম্পর্কে ইতিহাসের খুঁটিনাটি জানতে চাইলে আপনাকে সম্পূর্ণ লেখাটি একটু সময় নিয়ে পড়তে হবে। তাই অনুরোধ থাকবে, ধৈর্য সহকারে পুরো লেখাটি পড়ুন। শেষ পর্যন্ত পড়লে পাগলা মসজিদের ইতিহাসের পাশাপাশি এর অবস্থান সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা পেয়ে যাবেন।

পাগলা মসজিদ কোথায় অবস্থিত? পাগলা মসজিদের ভৌগলিক অবস্থান

পাগলা মসজিদের নামটি উচ্চারণ করলেই মনের গভীরে জেগে ওঠে অসংখ্য আবেগ, বিচিত্রময় সব অনুভূতি আর কিছু রহস্যঘেরা অজানা তথ্যের ছোঁয়া। ছোট থেকে বড়, প্রায় সবার কাছেই সুপরিচিত একটি নাম—'কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ'। কিশোরগঞ্জবাসীর গণ্ডি পেরিয়ে এই মসজিদের পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছে সারা বাংলাদেশে।

কিশোরগঞ্জ জেলা সদর উপজেলার হারুয়া এলাকা ঘেঁষে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক এই পাগলা মসজিদ। ঐতিহাসিক নরসুন্দা এই নদীর কূল ঘেঁষেই মসজিদটির অবস্থান। কেবল একটি ইবাদতস্থল হিসেবেই নয়, কিশোরগঞ্জের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও এটি ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে এই স্থাপনা স্বচক্ষে দেখার জন্য, আবার কেউ কেউ আসেন মানত পূরণের আশায়। এই লেখায় আমি ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ নিয়ে A to Z বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। তাই অনুরোধ থাকবে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটু ধৈর্য সহকারে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে সুস্থ রাখুন, ভালো রাখুন এবং দ্বীনের পথে অবিচল থাকার তৌফিক দান করুন, আমিন।

পাগলা মসজিদের নামকরণ ও মসজিদ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস?

কেনো? বা কী কারণে এই মসজিদটির নাম হলো "পাগলা মসজিদ"? এর পেছনের নামকরণের গল্পটাই বা কী? চলুন, বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক আজকের এই ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ, কিশোরগঞ্জ; ইতিহাস ও ঐতিহ্য ব্লগে।

পাগলা সাধকের কিংবদন্তি ও লোককথা

জনশ্রুতি অনুসারে, জনৈক এক আধ্যাত্মিক সাধক নরসুন্দা নদীর জলে মাদুরে ভর করে ভেসে এসে এই স্থানটিতে থিতু হয়েছিলেন। সময়ের সাথে সাথে তাকে কেন্দ্র করে ভক্ত ও সাধারণ মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। পরবর্তীতে নদীপথে ভেসে আসা সেই সাধকের মৃত্যু হলে তাকে এই স্থানে সমাহিত করা হয় এবং তার সমাধিসংলগ্ন জায়গাতেই তৈরি হয় করা হয় এই মসজিদ, যা আজকের দিনে বাংলাদেশের মানুষের কাছে পাগলা মসজিদ নামে পরিচিত।

দেওয়ান জিলকদর পাগলার কিংবদন্তি

বার ভূঁইয়াদের অন্যতম বীর ঈশা খাঁর উত্তরসূরি ও হয়বতনগরের প্রতিষ্ঠাতা দেওয়ান হযরত খাঁর নাতি দেওয়ান জিলকদর খাঁন—যিনি জিলকদর পাগলা নামে অধিক পরিচিত ছিলেন—নরসুন্দা নদীর তীরে বসে নামাজ আদায় ও ধ্যান করতেন। কালক্রমে তারই নামের সূত্র ধরে এই মসজিদের নামকরণ হয় পাগলা মসজিদ।

পাগলা বিবির নামকরণ তত্ত্ব ও লোককথা

স্থানীয় জনশ্রুতি বলছে ভিন্ন কথা— হয়বতনগরের জমিদার দেওয়ান হয়বত দাদ খাঁনের তৃতীয় প্রজন্মের উত্তরসূরি জোলকরণ খানের স্ত্রী আয়েশা দাদ খাঁন এই মসজিদটির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সন্তানহীন এই নারীকে স্থানীয় প্রজারা ডাকতেন ‘পাগলা বিবি’ নামে। কথিত আছে, একদিন স্বপ্নের নির্দেশনা পেয়ে তিনি দেওয়ানবাড়ি থেকে খানিকটা দূরে নরসুন্দা নদীর কূলে এই মসজিদ গড়ে তোলেন, যা কালক্রমে বাংলাদেশজুড়ে ‘পাগলা মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। প্রায় আড়াইশো বছর আগে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে জানা যায়।
 
কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের প্রশস্ত দৃশ্য, যেখানে সূর্যাস্তের আলো, সবুজ গম্বুজ, সুউচ্চ মিনার এবং লেকের পানিতে মসজিদের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

 সূর্যাস্তের সোনালি আলোয় আলোকিত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ। শান্ত লেকের পানিতে মসজিদের প্রতিফলন।

পাগলা মসজিদের স্থাপত্যশৈলী

দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে পরিচিত এই পাগলা মসজিদটি নরসুন্দা নদীর তীরবর্তী প্রায় ৩ একর ৮৮ শতাংশ জমির উপর গড়ে উঠেছে। এর স্থাপত্যে রয়েছে একটি উঁচু মিনার এবং তিনটি গম্বুজ। মসজিদের ডানদিকে চোখে পড়ে বড়সড় একটি অজুখানা, যার পাশ ঘেঁষে বয়ে চলেছে নরসুন্দা নদীর ধারা।

কেন মানুষের কাছে পাগলা মসজিদ এতটা জনপ্রিয়?

কিশোরগঞ্জের এই পাগলা মসজিদটি শুধু মুসলমানদের কাছেই নয়, বরং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছেও একটি শ্রদ্ধার স্থান হিসেবে বিবেচিত। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, খাঁটি মন থেকে কেউ যদি এই মসজিদে টাকা, সোনা-গয়না কিংবা মুরগি-হাঁস বা গবাদিপশুর মতো কিছু মানত হিসেবে দান করেন, তবে তার মনের ইচ্ছা পূরণ হয়। বহু বছরের পুরনো এই মসজিদটিকে ঘিরে গড়ে ওঠা এমন অলৌকিক ঘটনার গল্প এবং মানত পূরণের গভীর আস্থাই মূলত একে মানুষের কাছে এত প্রিয় ও পরিচিত করে তুলেছে।

২০২৬ সালে ChatGPT দিয়ে ঘরে বসে আয় করার ৭টি বাস্তব উপায় | সম্পূর্ণ গাইড

পাগলা মসজিদে দান বা মানত করলে কী মনের আশা পূরণ হয়?

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদকে ঘিরে এমন একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, এখানে দান করলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়। কেবল মুসলিম সম্প্রদায়ই নয়, বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরাও এখানে দান বা মানত করে থাকেন। এমনটাই বিশ্বাস করা হয় যে, কেউ যদি একাগ্র মনে অর্থ, স্বর্ণালংকার কিংবা হাঁস-মুরগি বা গৃহপালিত পশুর মতো কিছু এই মসজিদে দান করেন, তাহলে তার মনের ইচ্ছা পূরণ হয়ে যায়।
  • প্রথমতঃ মনের আশা পূরণ করা বা না করার বিষয়টি সবটাই মহান আল্লাহ তা'য়ালার হাতে। মনের আশা পূরণ হওয়া বা না হওয়া এতে কোন মসজিদ বা স্থানের গুরুত্ব নেই। আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, ‘আর তারা আল্লাহ ব্যতীত এমন সব বস্তুর উপাসনা করে, যা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না। অথচ তারা বলে এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী’ (ইউনুস ১০/১৮)।
  • দ্বিতীয়তঃ কোন স্থান বা মসজিদ মানুষের উপকার বা ক্ষতি করতে পারে এমন বিশ্বাস করা শিরক। যা থেকে বেঁচে থাকা প্রতিটা মুসলিমের জন্য আবশ্যক।
অতএব ‘দান করলে মনের আশা পূরণ হয়’ এই নিয়তে উক্ত মসজিদে দান বা মানত করা সম্পূর্ণ হারাম। এ থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেকটা মুসলিমের জন্য অপরিহার্য।

পাগলা মসজিদে কিভাবে দান করবো? অনলাইন ডোনেশন পদ্ধতি

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদে সরাসরি উপস্থিত হয়ে দান-সদকা করার প্রচলন দীর্ঘদিনের। তবে সময়ের সাথে সাথে এই প্রক্রিয়াতেও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এখন আর স্ব-শরীরে উপস্থিত না হয়েও, ঘরে বসেই নিয়মিতভাবে এই ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দান করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের কথা বিবেচনা করে ‘পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্স’ কর্তৃপক্ষ চালু করেছে অনলাইন ডোনেশন ব্যবস্থা। ফলে এখন থেকে বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়ের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস কিংবা অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে যে কেউ অনায়াসে দান করতে পারবেন।
 
পাগলা মসজিদের দানের টাকা ব্যয়ের খাত

সামাজিক কার্যক্রম; পাগলা মসজিদের এতো টাকা কোথায় ব্যয় হয়?

ওয়াকফ প্রশাসনের অধীনে পরিচালনা ব্যবস্থা

পাগলা মসজিদের কোটি কোটি টাকা যেন খেয়ালখুশি মতো খরচ না হয়, সেজন্য আছে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা। জেলা প্রশাসক এর নেতৃত্বে গঠিত পরিচালনা কমিটি এই অর্থের দায়িত্বে থাকে। মসজিদের প্রতিটি আর্থিক লেনদেন হয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরে, যাতে কেউ একা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন। ১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে মসজিদটি ওয়াকফ প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি বছর ওয়াকফ প্রশাসনের অডিটর দিয়ে আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাই করা হয়, আর আয়ের ওপর পাঁচ শতাংশ হারে চাঁদা যায় ওয়াকফ প্রশাসনের কাছে। এভাবেই স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়।

মসজিদ-মাদ্রাসা পরিচালনার নিয়মিত খরচ

একটি বড় পরিবার চালাতে যেমন প্রতি মাসে বাজার, বিদ্যুৎ বিল আর সংসারের লোকজনের খরচ লাগে, পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্স চালাতেও তেমনি নিয়মিত খরচ আছে। মসজিদ-মাদ্রাসার প্রায় ৩৭-৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাবদ মাসে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা যায়। আনসার সদস্যদের বেতনে যায় প্রায় দুই লাখ, বিদ্যুৎ বিলে দেড় লাখের মতো, আর গ্যাস বিলে যায় মাত্র তেরো হাজার টাকা। এসব ছাড়াও নানা আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে বছরে আরও প্রায় ছয় লাখ টাকা ব্যয় হয়।

এতিম ও দুস্থ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা-ভরণপোষণ

মসজিদ কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত নুরুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসায় বাবা-মা হারানো প্রায় ১৩০ জন এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থী কোনো খরচ ছাড়াই শিক্ষা গ্রহণ করছে। তাদের আবাসন ও আহারের সমস্ত ব্যয় নির্বাহ হয় দান থেকে সংগৃহীত অর্থে। শুধু খাবারের পেছনেই প্রতি মাসে গড়ে এক থেকে দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়। বছর ঘুরে এলে শিশুদের জন্য নতুন পোশাকও কেনা হয়, আর এই খরচও আসে মসজিদের তহবিল থেকেই। বলা যায়, এতিমখানাটি যেন মসজিদ-পরিবারেরই একটি অংশ, যার প্রতিটি প্রয়োজন মেটে মানুষের দানের টাকায়।

দুরারোগ্য রোগী ও দুস্থ মানুষের চিকিৎসা সহায়তা

ব্যাংকে জমা রাখা টাকার লভ্যাংশ থেকে একটি বড় অংশ ব্যয় হয় অসহায় মানুষের চিকিৎসায়। ক্যান্সার, কিডনি রোগ, ব্রেন স্ট্রোক, হার্ট স্ট্রোক বা প্যারালাইসিসের মতো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের এখান থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। যেমন একটি অর্থবছরে ১২৪ জন দুরারোগ্য রোগী এবং মেধাবী দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার খরচ মিলিয়ে প্রায় সতেরো লাখ ষাট হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছিল। যাদের চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই, তাদের কাছে এই সহায়তা অনেক বড় ভরসার জায়গা।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও দুর্যোগকালীন সহায়তা

শুধু নিজস্ব প্রতিষ্ঠান পরিচালনাতেই নয়, সংগৃহীত দানের একাংশ ব্যয় হয় জেলার অন্যান্য মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার উন্নয়ন কাজেও। করোনাকালীন সংকটময় সময়ে এই তহবিল থেকেই শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাড়ে সাত লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়, পাশাপাশি হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণও সরবরাহ করা হয়। অর্থাৎ দুর্যোগ বা সংকটের সময় পাগলা মসজিদের তহবিল কিশোরগঞ্জ তথা আশপাশের এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ায়, যা মসজিদটিকে কেবল দানের কেন্দ্র নয়, একটি সামাজিক সহায়তার কেন্দ্রেও পরিণত করেছে।

অবশিষ্ট অর্থের সংরক্ষণ

সব নিয়মিত খরচ ও অনুদান মিটিয়ে যে টাকা বেঁচে যায়, তা রূপালী ব্যাংকে মসজিদের নামে জমা রাখা হয়। এই সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ এখন কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই জমানো টাকাই ভবিষ্যতে মসজিদের অবকাঠামো উন্নয়ন ও জমি অধিগ্রহণের কাজে ব্যবহার করা হবে। ফলে দানের প্রতিটি টাকাই কোনো না কোনোভাবে মানুষের সেবায় বা মসজিদের ভবিষ্যৎ প্রয়োজনে ব্যয় হচ্ছে, অলসভাবে পড়ে থাকছে না।

দানের এই অর্থের একটি অংশ ব্যয় হয় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের বেতন-ভাতা এবং মসজিদের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে। পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন মসজিদ, এতিমখানার পরিচালনা ও উন্নয়নমূলক কাজেও এই তহবিল ব্যবহৃত হয়, এমনকি কবরস্থান সংস্কারের কাজেও এর একাংশ ব্যয় করা হয়।
 
কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের আধুনিকায়ন প্রকল্প ও নতুন ইসলামিক কমপ্লেক্সের তথ্যভিত্তিক থাম্বনেইল।

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ এর আধুনিকায়ন প্রকল্প

পাগলা মসজিদ আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ শুধু একটি উপাসনালয় নয়, এটি দেশের সবচেয়ে বেশি দান পাওয়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। প্রতিদিন হাজারো মুসল্লি এখানে নামাজ পড়তে আসেন, আবার জুমার দিনে ভিড় এত বেড়ে যায় যে মসজিদের ভেতরে জায়গা সংকুলান হয় না। পুরনো তিনতলা ভবনটি এখন আর এই বিপুল মুসল্লির চাপ সামলাতে পারছে না। ঠিক এই কারণেই মসজিদ পরিচালনা কমিটি পুরনো অবকাঠামো ভেঙে আন্তর্জাতিক মানের একটি নতুন ইসলামিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষ স্বস্তিতে নামাজ আদায় করতে পারেন।

নতুন ইসলামিক কমপ্লেক্সের পরিকল্পনা

পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন স্থাপনাটির নাম হবে "পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স"। এটি হবে ছয়তলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক ভবন, যেখানে একসঙ্গে কয়েক হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের জন্যও থাকবে আলাদা ও প্রশস্ত নামাজের ব্যবস্থা। কমপ্লেক্সের সঙ্গে যুক্ত থাকবে মাদ্রাসা, এতিমখানা, লাইব্রেরি, মিলনায়তন এবং অতিথিশালা। গাড়ি রাখার জন্য আলাদা পার্কিং ব্যবস্থাও রাখা হবে। অর্থাৎ শুধু নামাজের জায়গা নয়, পুরো এলাকাটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় ও শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এই নকশা করা হয়েছে।

প্রকল্পের ব্যয় ও অর্থায়ন

এই মেগা প্রকল্পের জন্য বাড়তি কোনো সরকারি বরাদ্দের দরকার নেই, কারণ মসজিদের নিজস্ব দানবাক্স থেকেই পুরো খরচ মেটানো হবে। গ্রামের কেউ যেমন হাটে ধান বিক্রি করে জমানো টাকায় বাড়ি তোলেন, অনেকটা সেভাবেই বছরের পর বছর জমা হওয়া দানের টাকা দিয়েই এই কমপ্লেক্স নির্মিত হবে। প্রতি কয়েক মাস পরপর দানবাক্স খোলা হলে কোটি কোটি টাকা, স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়। সর্বশেষ হিসাব মতে, মসজিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে ১৩০ কোটি টাকার বেশি অর্থ, যা দিয়ে প্রকল্পের শুরুর দিকের খরচ চালানো সম্ভব বলে কমিটি মনে করছে।

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা

সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা কিশোরগঞ্জ সফরে গিয়ে জানিয়েছিলেন, খুব দ্রুতই এই কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রস্তুতিও চলছে। তবে সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মসজিদ কমিটির সভাপতি তথা জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, তহবিল প্রস্তুত হয়ে গেলেও বাস্তব নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি; তারা আশা করছেন শিগগিরই কাজ শুরু করা যাবে। অর্থাৎ প্রকল্পটি এখন পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির শেষ ধাপে আছে, বড় ধরনের নির্মাণযজ্ঞ শুরু হওয়া বাকি।

পাগলা মসজিদের ইমাম কে ছিলেন? বর্তমান ইমাম কে?

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো একটি স্থাপনা, কিন্তু এর প্রতিষ্ঠা ও শুরুর দিকের ইতিহাস মূলত মুখে মুখে চলে আসা জনশ্রুতির ওপর ভিত্তি করেই জানা যায়। কোনো লিখিত দলিল বা প্রাচীন নথিতে মসজিদের প্রথম দিককার ইমামদের নাম-পরিচয় সংরক্ষিত নেই। ১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে মসজিদটি ওয়াকফ প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, তবে তার আগে বা পরের সময়ে কে কে ইমামতির দায়িত্বে ছিলেন, সেই তালিকা প্রকাশ্যে কোথাও পাওয়া যায় না। তাই অতীতের ইমামদের নাম নিয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে কিছু বলার সুযোগ নেই।
বর্তমানে পাগলা মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মুফতি খলিলুর রহমান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই দায়িত্বে আছেন এবং মসজিদ সংক্রান্ত নানা বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে থাকেন। দানবাক্স খোলার সময় কিংবা দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষদের ভক্তি-বিশ্বাস নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তার বক্তব্যই সাধারণত সংবাদে উঠে আসে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা কমিটি প্রশাসনিক দিকটি দেখলেও, মসজিদের নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন এই পেশ ইমামই।

ইমামের দায়িত্ব ও ভূমিকা

সাধারণ যেকোনো মসজিদের ইমামের মতোই পাগলা মসজিদের পেশ ইমাম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ান, জুমার দিন খুতবা দেন এবং মুসল্লিদের ধর্মীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। তবে এই মসজিদে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ আসেন বলে ইমামের দায়িত্বটা একটু আলাদা মাত্রা পায়। নিয়মিত নামাজ পড়ানোর পাশাপাশি তাকে দর্শনার্থী ও দানকারীদের নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হয়, আর মসজিদ পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে ধর্মীয় বিষয়ে পরামর্শও দিতে হয়। এভাবেই তিনি মসজিদের আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের জায়গাটি ধরে রেখেছেন।

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য, যেখানে সবুজ গম্বুজ, সুউচ্চ মিনার, আধুনিক সেতু, নীল আকাশ ও সোনালি মেঘ একসঙ্গে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরি করেছে।

 সূর্যাস্তের সোনালি আলোয় আলোকিত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ। সবুজ গম্বুজ, সুউচ্চ মিনার এবং আধুনিক সেতুর সমন্বয়ে এটি বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ইসলামিক স্থাপত্যের একটি সুন্দর দৃশ্য।

পাগলা মসজিদের বিগত ৩ বছরে প্রাপ্ত দানের টাকার পরিমাণ

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদে গত প্রায় তিন বছরে মোট আটবার দানবাক্স খোলা হয়েছে, আর প্রতিবারই আগের চেয়ে বেশি টাকা পাওয়া গেছে।
  • ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৬ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টাকা।
  • এরপর ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল ৭ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৭ টাকা, ১৭ আগস্ট প্রায় ৭ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং ৩০ নভেম্বর ৮ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৪ টাকা পাওয়া যায়।
  • ২০২৫ সালে এসে এই অঙ্ক আরও বাড়তে থাকে; ১২ এপ্রিল ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা, ৩০ আগস্ট ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা এবং ২৭ ডিসেম্বর ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া যায়।
  • সবশেষ, চলতি ২০২৬ সালের ২৭ জুন অর্থাৎ জুলাই মাস পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সবচেয়ে সাম্প্রতিক দানবাক্স খোলার হিসাবে পাওয়া যায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা।
এই দানের অঙ্ক একত্র করলে গত প্রায় তিন বছরে শুধু দানবাক্স থেকেই পাগলা মসজিদের তহবিলে জমা পড়েছে মোট প্রায় ৭৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এই হিসাবের সঙ্গে প্রতিবার পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপার অলংকার যুক্ত করা হয়নি; সেগুলো আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে পরে নিলামে বিক্রি করে মূল তহবিলে যোগ করা হয়। অর্থাৎ প্রকৃত অর্থে মসজিদের মোট আয় এই হিসাবের চেয়েও কিছুটা বেশি।

উপসংহার (আমার শেষ কথা)

প্রিয় পাঠক, আশা করি কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ইতিহাস সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানলাম পাগলা মসজিদ কোথায় অবস্থিত, কীভাবে এই মসজিদ'টির নামকরণ হয়েছিলো এবং কেনোই বা এই মসজিদ'টি বাংলাদেশের মানুষের কাছে এতোটা জনপ্রিয়।
একটা কথা মনে রাখবেন, পাগলা মসজিদ একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপাসনালয়। এখানে দান-সদকা করা অবশ্যই ভালো কাজ। তবে "দান করলে মনের আশা পূরণ হবে" এই নিয়তে দান বা মানত করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। কারণ মনের আশা পূরণ করা বা না করার ক্ষমতা একমাত্র মহান আল্লাহ তা'য়ালার। কোনো মসজিদ বা স্থান এই ক্ষমতা রাখে না। তাই সতর্ক থাকুন, শিরক থেকে বেঁচে থাকুন।
আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দান করুক, শিরক ও বিদআত থেকে হেফাজত করুক এবং ইসলামের পথে অটল রাখুক। আমিন। 🤲🏼✨

আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধু ও পরিচিতজনদের সাথে শেয়ার করুন। যাতে তারাও কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে। আল্লাহ হাফেজ। 😊

সাধারণ জিজ্ঞাসা [ FAQs ]

প্রশ্ন: পাগলা মসজিদ কোথায় অবস্থিত?
কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার হারুয়া এলাকায় ঐতিহাসিক নরসুন্ধা নদীর তীরে অবস্থিত।
প্রশ্ন: পাগলা মসজিদ কেন বিখ্যাত?
ঐতিহাসিক গুরুত্ব, ধর্মীয় মর্যাদা, রেকর্ড সংখ্যক বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণালংকার পাওয়ার কারণে সারা দেশে বিখ্যাত।
প্রশ্ন: পাগলা মসজিদে দান করলে কি মনের আশা পূরণ হয়?
বহু মানুষের মধ্যে এমন বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। তবে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে মনের আশা পূরণ করা বা না করা সম্পূর্ণরূপে মহান আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। অতএব 'মনের আশা পূরণ হয়' এই নিয়তে উক্ত মসজিদে দান বা মানত করা সম্পূর্ণরূপে হারাম।
প্রশ্ন: পাগলা মসজিদে মানত করা যাবে কি?
কোন স্থান বা মসজিদ মানুষের উপকার বা ক্ষতি করতে পারে এমন বিশ্বাস করা শিরক। যা থেকে বেঁচে থাকা প্রতিটা মুসলিমের জন্য আবশ্যক। অতএব 'মনের আশা পূরণ হয়' এই নিয়তে উক্ত মসজিদে দান বা মানত করা সম্পূর্ণরূপে হারাম।
প্রশ্ন: পাগলা মসজিদের দানবাক্স কতদিন পরপর খোলা হয়?
প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস পরপর পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয় এবং সেখানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়।
প্রশ্ন: পাগলা মসজিদের ইমাম কে?
দীর্ঘদিন যাবৎ পাগলা মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন “মাওলানা মুফতি খলিলুর রহমান”।
প্রশ্ন: পাগলা মসজিদে কি শুধু মুসলিমরাই আসে?
না। বিভিন্ন ধর্মের মানুষজন ঐতিহাসিক এই পাগলা মসজিদে দান বা মানত করার জন্য আসেন।
প্রশ্ন: পাগলা মসজিদে কি অনলাইনে দান করা যায়?
হ্যাঁ। বর্তমানে বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে স্ব-শরীরে উপস্থিত না হয়েও পাগলা মসজিদে দান করা যায়।
প্রশ্ন: পাগলা মসজিদে দান করার নিয়ম কী?
পাগলা মসজিদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.paglamosque.org ওপেন করে 'ডোনেট নাও/দান করুন' বাটনে ক্লিক করে বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়ে (যেমনঃ বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় এবং ব্যাংকসহ) ব্যবহার করে পাগলা মসজিদে দান করা যাবে।
প্রশ্ন: কিশোরগঞ্জের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র?
ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ জেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত “ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ”।
প্রশ্ন: পাগলা মসজিদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট কোনটি?
পাগলা মসজিদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হলো www.paglamosque.org
প্রশ্ন: পাগলা মসজিদে মহিলাদের নামাজের ব্যবস্থা আছে কি?
মসজিদের দক্ষিণ পাশে মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান রয়েছে। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে (২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে) পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সে মহিলাদের জন্য জামাতে জুম্মার নামাজ আদায়েরও আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা চালু করেছে।
প্রশ্ন: পাগলা মসজিদে একসাথে কতজন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন?
বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী প্রায় ৬ হাজার মুসল্লি একসাথে জামাতে নামাজ আদায় করতে পারেন।
পূর্ববর্তী আর্টিকেল
ইতোপূর্বে কেউ মন্তব্য করেনি
মন্তব্য করুন
comment url